Friday, April 29, 2011

বিষন্ন প্রেমগাঁথা


আমার একই সাথে পড়তাম। প্রায় সবার বাসা পাশাপাশি হওয়ার সুবাদে আমাদের বন্ধুত্ব ছিল আরো গাঢ়। তুই-তোকারি সম্পর্ক। বিশ্ব বিদ্যালয়ের রঙ্গিন দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল ভালই। এদের মধ্যে একজনকে একটু অন্যরকম লাগতো। পাত্তা দিতাম না। আমরা ভেবেছিলাম বন্ধুরা বন্ধু হিসেবে থাকব। কিন্তু আমার অবস্থা আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছিল। ভাল লাগাটা ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছিল আর শেষপর্যন্ত ঈর্ষায় রুপান্তরে মোড় নিচ্ছিল। আমার প্রিয় বন্ধুদের (ছেলে) সাথে ও যখন কথা বলত হেসে হেসে কথা বলত আমার গা জ্বলতো আর অক্ষম ক্রোধে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। কতদিন আমি এসব কথা ভেবে শুন্যে ও দেয়ালে ঘুষি মেরেছি। আমি হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলাম।

প্রথম বর্ষের কাহিনী এটা। কোথায় পড়ালেখায় মনোযোগ দিব না পড়ে গেলাম প্রেমোদগম যন্ত্রণায় । কাউকে বলতেও পারছিলাম না। ভাবছিলাম, বললে তো লাভ হবেই না, উল্টো নীচু মানসিকতার ছেলে বলে অপবাদ পেতে পারি। যেখানে সহপাঠীরা একের পর এক মেয়েকে প্রেম নিবেদন করছে এবং কেউ কেউ ব্যর্থ ও হচ্ছিল। আমি মনে মনে চাইতাম আর প্রেম নিবেদন করতাম। কল্পনায় আমাদের গল্প সাজাতাম, অন্তর্সুখ পেতাম। আমি দোটানায় পড়ে গেলাম, একদিকে প্রেম পিপাসুদের ভালবাসা নিবেদনের প্রচণ্ডতায় ওকে হারানোর ভয় কারন ওতো জানে না আমি ওকে কত ভালবাসি আবার অন্যদিকে নিবেদন পরবর্তী প্রত্যাখ্যানের বেদনা।

গল্পটা এখানে শেষ হয়ে যেতে পারত। একটি নতুন বিরহ কাব্য হয়ে ঝরে যেতে পারত। কিন্তু আমি আবেগে যৌক্তিক আবরন দেয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। ওর মন জয় করতে চেষ্টা করতে থাকলাম। চেতন মনে ওর দ্বিধা আসবে, অবচেতন মনে ঠাই নেয়ার প্রয়াস নিলাম। বন্ধু হিসেবে ও ছিল অসাধারণ। সবাইর সাথে সমান ভাবে মিশত। এমন মিশুক আর উদার মেয়ে আমি কমই দেখেছি। মাঝে মাঝে খুব কথা বলতাম আমরা বিভিন্ন বিষয়ে, পড়তাম একসাথে। আবার মাঝে মাঝে ঠিকমত কথা বলতাম না, ও অবাক হত কিছু বলত না।

No comments:

Post a Comment