Friday, April 29, 2011

কেন আপনি সফট এবং এনার্জি ড্রিংকস খাবেন না


কারণ আপনি মোটা হতে চান না
মোটা হওয়া মানে শুধু দেখতে খারাপ বা শারীরিক অস্বস্তির ব্যাপারই নয়। ওজন বাড়লে আপনি খুব অনায়াসে যে অসুখগুলোতে আক্রান্ত হবেন তা হলো টাইপ টু ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেশার,স্ট্রোক, হার্ট এটাক, ক্যান্সার, গলব্লাডারে পাথর, আর্থ্রাইটিস। পরিণামে অকাল মৃত্যু। মোটা হওয়ার সঙ্গে সফট ড্রিংকস-এর একটা সরাসরি যোগাযোগ আছে। বোস্টনের শিশু হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ এবং হার্ভার্ড স্কুল একসাথে গবেষণা করে যা বের করেছে তাহলো, একটি শিশু যদি প্রতিদিন একটা করে বাড়তি সফট ড্রিংকস খায় তাহলে তার ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় ৬০%। এক বোতল বা এক ক্যান সফট ড্রিংকসে ক্যালরির পরিমাণ হলো ১৬০ যা ১০ চামচ চিনির সমান। এ পরিমাণ ক্যালরি ঝরাতে সপ্তাহে আপনাকে ভারী ব্যায়াম করতে হবে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি। কিন্তু আপনি কি তা করেন? তাহলেই বুঝুন পরিণতি!
কারণ আপনি আপনার দাঁত হলুদ বানাতে চান না
ধরুন, আপনি আপনার বন্ধুদের একটা জাদু দেখাতে চান। আপনার ধবধবে সাদা মুক্তোর মতো দাঁতগুলোকে আপনি ১ ঘণ্টার মধ্যে স্থায়ীভাবে হলুদ করে ফেলবেন। কিছুই না, এক ঢোক কোলা মুখে নিয়ে ১ ঘণ্টা ধরে রেখে দিন। ব্যস, এনামেল ক্ষয়ে দাঁতগুলো হলুদ হয়ে যাবে। সফট ড্রিংকসের ঝাঁঝালো স্বাদ বাড়ানোর জন্যে এতে ফসফরিক এসিড ব্যবহার করা হয়। এ এসিড এত শক্তিশালী যে, একটা নখ এর মধ্যে ডুবিয়ে রাখলে ৪ দিন পর আর আপনি নখটাকে খুঁজে পাবেন না। তাছাড়া সফট ড্রিংকসে যে চিনি ব্যবহার করা হয়, ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে এটাও এসিড তৈরি করে।
কারণ আপনি ভঙ্গুর হাড় চান না
ফসফরিক এসিডের আরেকটি কাজ হলো হাড়ের ক্যালসিয়ামকে ক্ষয় করা। ১৯৯৪ সালে টিনএজ মেয়েদের ওপর চালানো হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা যায়, যে মেয়েরা সফট ড্রিংকস পান করে অন্যদের তুলনায় তাদের হাড়ভাঙার প্রবণতা ৫ গুণ বেশি। পরবর্তীকালে অস্টিওপরোসিস নামক হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ এদের হতে পারে। এ রোগে হাড়ের ঘনত্ব কমে এবং গঠন দুর্বল হয়ে যায়। ফলে হাড় সহজে ভেঙে যায়। সাধারণত বয়স্ক মহিলাদের এ রোগটি বেশি দেখা দেয় আর আশঙ্কার কথা হলো, ভাঙা হাড় আর সহজে সেরে ওঠে না। ২,৫০০ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার ওপর এ ধরনের আরেকটি গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, এমনকি যারা নিয়মিত দুধ বা অন্যান্য ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন তারাও কোলাজাতীয় ড্রিংকসের ক্ষতিকর এ প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেন নি।
কারণ আপনি আসক্ত হতে চান না
প্রতি বোতল সফট ড্রিংকসে ক্যাফেইন আছে ৫০ মিলিগ্রামের মতো। সফট ড্রিংকস কোম্পানিগুলোর দাবি- এটা তারা ব্যবহার করছে স্বাদ বাড়ানোর জন্যে। কারণ ক্যাফেইনের তেতো স্বাদ অন্যান্য ফ্লেভারকে বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু জন হপকিন্স মেডিকেল ইনস্টিটিউটের রোলান্ড গ্রিফিথ বেশ কয়েকজন মানুষকে বাজারের সাধারণ সফট ড্রিংকস এবং ক্যাফেইন ছাড়া ড্রিংকস খেতে দিয়ে দেখেন, ৯২% জনই এ দুটোর পার্থক্য বুঝতে পারে নি। তার মানে ক্যাফেইনের স্বাদের ব্যাপারটি সঠিক নয়। তাহলে ক্যাফেইন দিয়ে কী হয়? ক্যাফেইন আসলে আসক্তি সৃষ্টি করে। আপনি একবার যখন এতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন আপনি তখন শুধু এটাই চাইবেন। আর সব আসক্তি সৃষ্টিকারী উপাদানের মতো ক্যাফেইনও সাময়িকভাবে আপনার মুডকে চাঙ্গা করলেও দীর্ঘমেয়াদে এর রয়েছে অনেকগুলো ক্ষতিকর দিক। যেমন, এক বা দুই বোতল সফট ড্রিংকসই আপনার অনিদ্রা, নার্ভাসনেস ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন সৃষ্টির জন্যে যথেষ্ট। বেশি পরিমাণে খেলে তা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন থেকে শুরু করে আতঙ্ক এবং উদ্বেগ প্রবণতা, পেশিতে টান লাগা, অসংলগ্ন কথাবার্তা, বিষণ্নতা এবং উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী মহিলা- যারা সফট ড্রিংকস খেয়েছেন তাদের গর্ভপাত, সময়ের আগেই প্রসব বা কম ওজনের বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঝুঁকি বেশি। ক্যাফেইনের আরেকটি প্রভাব হলো, এটা প্রস্রাবের প্রবণতা বাড়ায় এবং দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে। তার মানে প্রখর রোদের মধ্যে সফট ড্রিংকস খেয়ে আপনি হয়তো ভাবছেন- যাক, শরীর থেকে যে ঘাম ঝরে যাচ্ছে তা পূরণ করছেন। আসলে ফল তার উল্টো। তার চেয়ে বরং পানি খান।
কারণ আপনি বদহজমে ভুগতে চান না
আমরা অনেকেই রিচফুড খাওয়ার পর সফট ড্রিংকস খেতে চাই এ ধারণায় যে, এতে খাবার দ্রুত হজম হবে। অথচ এটা যে কত ভুল ধারণা তা একটু বললেই পরিষ্কার হবে। আমাদের দেহ সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খাবার হজম করে থাকে। কিন্তু সফট ড্রিংকস যখন পরিবেশন করা হয়, তখন এর তাপমাত্রা থাকে ৩/৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কাজেই খাবার গ্রহণের পর যখন ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করা হয়, তখন হজমে তো সাহায্য করেই না, উল্টো তাতে পচন ধরায়। তাছাড়া এসিডিক হওয়ার কারণে সফট ড্রিংকস পাকস্থলীর সংবেদনশীল এলকালাইন ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। ফলে পেট ব্যথা, ফুলে যাওয়া, বদহজম, গ্যাস, টক ঢেকুর ইত্যাদি নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
কারণ আপনি ডায়াবেটিস বাঁধাতে চান না
চিনি এবং ওজনে এর ভূমিকার কারণে সফট ড্রিংকস ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। আমেরিকান ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের ৪ বছর ধরে চলা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে মহিলারা সফট ড্রিংকস বেশি খান, তাদের টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি সাধারণ মহিলাদের চেয়ে ২ গুণ বেশি।
কারণ আপনি ক্যান্সারের রোগী হতে চান না
সফট ড্রিংকস দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যারামেলের রং আনার জন্যে সফট ড্রিংকসে পলি-ইথিলিন গ্লাইকোল নামে যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, তা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্যে দায়ী। মজার ব্যাপার হলো, ‘ডায়েট কোলা’ নামে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে যে সফট ড্রিংকস বিক্রি হয় তাতে চিনির পরিবর্তে এসপার্টেম নামে একটি কেমিকেল ব্যবহার করা হয়। দেহের ওপর এ উপাদানটির রয়েছে ৯২ ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব। তার মধ্যে রয়েছে ব্রেন টিউমার, বন্ধ্যাত্ব, ডায়াবেটিস, মৃগী এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতা।
কারণ কিডনি ডায়ালাইসিসকে আপনি খুব সুখকর কিছু মনে করেন না
সফট ড্রিংকস যাতে বরফের মতো জমে না যায় সেজন্যে এতে ইথিলিন গ্লাইকোল নামের একটি উপাদান ব্যবহার করা হয়। এটি প্রায় আর্সেনিকের মতোই একটি বিষ। কিডনির ওপর এর প্রভাব খুব ক্ষতিকর। ১ ঘণ্টায় আপনি যদি ৪ লিটার কোক খান তাহলে কিডনি ফেইলিওর হয়ে আপনার মৃত্যু নিশ্চিত। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন- যারা সফট ড্রিংকস খান না বা পরিমিত খান, তাদের তুলনায় যারা প্রচুর পরিমাণে খান, তাদের কিডনিতে পাথর জমার হার প্রায় তিনগুণ! সফট ড্রিংকসে যে স্যাকারিন ব্যবহার করা হয়, তাতে ইউরিনারি ব্লাডার ক্যান্সার অর্থাৎ মূত্রাশয়ের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
কারণ আপনি শ্বাসকষ্টে ভুগতে চান না
সফট ড্রিংকসের তাৎক্ষণিক বিপদ হচ্ছে গলা বা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি। আমাদের নাকে, গলায় তথা শ্বাসতন্ত্রের শুরুর দিকের অংশে থাকে অসংখ্য সিলিয়া। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত যে ধূলিকণা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস গ্রহণ করি এই সিলিয়াগুলো সেগুলোকে শরীরের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। সফট ড্রিংক খেলে এসব সিলিয়াগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। শুরু হয় টনসিলাইটিস, ফেরিংজাইটিস, ল্যারিংজাইটিস, ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসজনিত রোগ।
কারণ কীটনাশককে আপনি খাওয়ার জিনিস মনে করেন না
২০০৪ সালে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ছত্তিশগড় রাজ্যে কৃষকরা কোকাকোলাকে কীটনাশক হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে অন্ধ্র প্রদেশের রামকৃষ্ণপুরমের চাষী গটু লখমাইয়া বলেন, আমার তুলা চাষের কয়েক হেক্টর জমি জুড়ে আমি সফট ড্রিংকস স্প্রে করেছি। কারণ আমি দেখেছি এতে পোকা মরে যায়। অন্য চাষীরাও বলেছেন, সফট ড্রিংকস প্রচলিত কীটনাশকের তুলনায় দামে যেমন সস্তা, তেমনি ব্যবহারকারীর ত্বকের জন্যেও নিরাপদ।
কারণ আপনি অকালে বুড়িয়ে যেতে চান না
ম্যাসাচুসেটসের ৫০ বছর বয়স্ক একদল নারী-পুরুষ যারা প্রতিদিন ১ ক্যান বা এর বেশি করে সফট ড্রিংকস পান করেছেন, তাদের ওপর ৪ বছর ধরে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মেটাবলিক সিনড্রোম বেড়ে গেছে ৪৪%। মেটাবলিক সিনড্রোম বাড়লে ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি যেমন বাড়ে তেমনি অকালে বুড়িয়ে যায় দেহ।
আর আপনি মুসলিম হলে এটি আপনার জন্যে হালাল না-ও হতে পারে
গবেষক মার্ক পেন্ডারগ্রাস্ট কোকাকোলার ওপর দীর্ঘ গবেষণা করে লিখেছেন দীর্ঘ নামের একটি বই- ফর গড, কান্ট্রি এন্ড কোকাকোলা : ‘দ্য ডেফিনিটিভ হিস্ট্রি অফ দ্য গ্রেট আমেরিকান সফট ড্রিংক এন্ড দ্য কোম্পানি দ্যাট মেকস্ ইট’। এ বইতে তিনি শতাব্দীব্যাপী গোপন করে রাখা কোকের ফরমুলা প্রকাশ করে দিয়েছেন। এ ফরমুলার একটি উপাদান হলো এলকোহল। সুতরাং আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুন আপনি কী খাচ্ছেন আর আপনার সন্তানকেই বা কী খেতে উৎসাহিত করছেন।

লরুপা by Moinul Isla


নতুন বৌয়ের বেশভূষা যেরকম থাকে সেরকম কিছুই পারুলের মধ্যে নেই। হাতে মেহেদি নেই, পায়ে আলতা নেই, ঠোঁটে হাসি নেই। তবে সে বিয়ের পরও লুকিয়ে চুরিয়ে গাছে উঠে, যেদিকে ইচ্ছে হয় সেদিকে ঘুরতে বের হয়ে যায় এমনকি ছোট ছেলেমেয়েদের সাথে অনায়াসে খেলতে বসে যায়। অবশ্য বিয়ের আগে বেশিরভাগ সময়েই বাবুলকে ওর সংগে দেখা যেত। ছোট থেকে ওরা একসাথে খেলত, খেলায় রাজা-রানী হত। ওদের সহপাঠীরা জানত, একদিন ওদের বিয়ে হবে। কিন্তু এখনকার সময়টা ভিন্ন। পারুলের সাথে বাবুলের সম্পর্কটা বিচিত্ররূপ নিয়েছে।

ওরা যে গ্রামে থাকে সে গ্রামটা বাংলাদেশের বরেন্দ্র এলাকায়, সাঁওতালের বাসই বেশি সেখানে, আইন কানুনের বালাই নেই বললেই চলে। তাই বাল্যবিবাহ সেখানে এমনকিছু ব্যাপার নয়। ওরা যখন ক্লাস এইটে তখন তাদের মধ্যে হঠাৎই বিচ্ছেদ ঘটে। সেসময় একনাগাড়ে তাদের দশ-বারদিন দেখা হল না। এর মাঝে একদিন তাদেরই এক সহপাঠি আনারুল বাবুলকে বলে,

-পারুলের নাকি বিহ্যা? শুন্যাছিস নাকি?

-তোকে কে কহিলেবে?

-হ্যামাকে রাজ্জাক্যা কহিল যে পারুলের বিহ্যা।

-চল রাজ্জাক্যার কাছে চল। মিছা কহিলে তোকে হ্যামি পুঁতে ফেলব এই কহ্যা দিলাম।

কিন্তু বাবুলের কথায় আনারুল রাজ্জাকের কাছে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।

-কেনে যাবি নাবে?

-তুই যাগা, বাপে হ্যামাকে ক্ষ্যাতে ড্যাক্যাছে।

বাবুল তাই একাই রাজ্জাকের কাছে ছুটে যায়।

-তুই আনারুল্যাকে কি কহেছিস?

-হ্যামি, কই কিছু কহিনি তো।

-তুই নাকি কহেছিস, পারুলের নাকি বিহ্যা?

-ও, পারুলের বাপে হ্যামার বাপকে কহ্যাছে।

বাবুল আচমকা রাজ্জাকের গালে থাপ্পর বসিয়ে দেয়,

-শালা, মিছা কথা যদি হোয়্যা থাকে তো তোকে হ্যামি...

-তুই হ্যামাক মারলি কেনেবে শালা?

-ম্যারাছি, বেশি কর‍্যাছি।

-যা শালা, তোর পিরীত গ্যাছে গ্যা তো হ্যামাক মারিস কেনে?

এবার বাবুল রাজ্জাককে লাথি মারার জন্যে পা বাড়ায় কিন্তু রাজ্জাক সময় মত নিজেকে দূরে সরিয়ে নেয় এবং বলে,

-যা শালা বোকাযোদা।

-শালা তোকে হ্যামি দেখ্যা নিব কহ্যা গ্যালাম।

বাবুলের চোখে পানি এসে যায়, অসহ্য যন্ত্রণা হয় বুকে যেন পাথর জমে আছে।

তার দুইদিন পরেই বাবুল পারুলকে দেখে ওদের বাড়ীতে বধূবেশে, তার মেজ চাচার বউ হিসেবে। এরপর সে অভিমানে টানা একমাস পারুলের সাথে কথা বলেনি। আজ হঠাৎই পারুল বাবুলকে একা পেয়ে পিছন থেকে হাত ধরে ফেলে,

-তুই হ্যামাকে এড়ায় চলিস কেনে?

বাবুল প্রথমে উত্তর দেয় না। পরে আস্তে আস্তে বলে,

-হাত ছাড়ি দে, হ্যামার হাত ধর‍্যাছিস কেনে?

-ধর‍্যাছি কেনে বুঝিস না? তুই কথা না কহিলে হ্যামার যে বুক পুড়ে।

-তোর বুক পুড়ে তো হ্যামার কি? বুক পুড়ে তো বিহ্যা করলি কেনে?

-বিষ তো হ্যামিই খ্যায়াছি। বাজানে তোর চাচার থ্যাক্যা বিশ হাজার ট্যাকা নিয়্যাছিল। শোধ দিতে পারেহ নাই তাই হ্যামাক দিয়্যা দিছে।

বাবুলের চোখ রক্তবর্ণ হয় উঠে।

-তখন হ্যামাক কহিতে পারলি না? হ্যামি দ্যাখতাম, দরকার হলি বাজানের ট্যাকা চুরি কর‍্যা তোকে ছাড়ি নিতাম। তুই হ্যামাক কহিলি না কেনেরে পারুল। তুই হ্যামার জীবনটা নষ্ট কর‍্যা দিছিস।

বাবুল উত্তেজনায় ডান পাটা দশ ইঞ্চি তুলে মাটিতে লাথি মারে। তারপর দুজনেই কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। চোখে চোখে কথা হয় যেন দুজনেই দুজনকে বলছে, “বিহ্যা হয়্যাছে তো কি হয়্যাছে, হ্যামি তো তোকেই ভালবাসি।“ ঠিক এসময়ই বাবুলের মা বাবুলকে ডাকে,

-হ্যামার হয়্যাছে যত জ্বালা, বাবুইল্যারে...হারামজাদাটা কই গ্যাল কহ্যা গেল না।

বাবুল তৎক্ষনাত পারুলের কাছ থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে যায়। সন্ধ্যার পরে রাতের ভাত খেয়ে চেরাগ নিয়ে বই খুলে পড়তে বসে সে। শহরের বিজলি এখনো এই গ্রামে এসে পৌঁছায় নাই। বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে চেরাগের আলো অদ্ভূত এক আলো ছায়ার খেলা সৃষ্টি করেছে। সেই আলোতে সে অংক খাতায় একটা মেয়ের মুখের অবয়ব আঁকার চেষ্টা করে। মেয়েটা পারুল কিনা চেনা যায় না তবু ছবিটার পাশে তীর চিহ্ন দিয়ে লিখে “লরুপা”, কিছুদিন ধরেই সে অংক খাতা আর স্কুলের দেয়ালে পারুলের নাম উলটো করে লিখে চলেছে, “লরুপা”।

এভাবেই দিনগুলি কেটে যাচ্ছিল তাদের। হঠাৎ তাদের বাসায় আবার উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বাবুলের ছোট চাচার বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। ওরা গরুর গাড়ীতে করে বউকে আনতে যায়। সবকিছুই ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হয় কিন্তু ফেরার পথে বিপত্তি ঘটে। ওরা যখন রওনা দিয়েছিল তখন ঝড়ের পূর্বাভাসও ছিল না। হঠাৎ কোথা থেকে ঝড় এসে পড়ে দিনের দুঘন্টা বাকি থাকতেই চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। বলদগুলো বাতাসের তোড়ে কিছুতেই সামনে যেতে দেয় না। গরুর গাড়ির উপরে যে ছাউনি ছিল তা ঝড়ের পাঁচ মিনিটের মাথায় উড়ে গেল। ওরা তখন আম বাগানের ভিতর, চারিদিকে শোঁ শোঁ শব্দে বুকে কাঁপন তুলে দেওয়ার জন্যে যথেষ্ট। ওরা কিছুক্ষন একসাথে থাকার চেষ্টা করল তারপর ভয়ে সবাই ছুটোছুটি শুরু করলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাবুল কাছে যাকে পেল তার হাত ধরে ফেলল শক্ত করে, ঝড়ের মাঝেও বুঝতে পারল সেটা পারুলের হাত।


পরেরদিন গ্রামবাসি উপড়ে পড়া আম গাছের নিচ থেকে জোড়াজোড়ি করা দুইটি মৃতদেহ উদ্ধার করে। একটা বাবুলের এবং অন্যটা পারুলের। বাবুলের পকেটে একটা কাগজ পাওয়া গিয়েছিল যাতে অনেকবার লেখা ছিল “লরুপা”।

বিষন্ন প্রেমগাঁথা


আমার একই সাথে পড়তাম। প্রায় সবার বাসা পাশাপাশি হওয়ার সুবাদে আমাদের বন্ধুত্ব ছিল আরো গাঢ়। তুই-তোকারি সম্পর্ক। বিশ্ব বিদ্যালয়ের রঙ্গিন দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল ভালই। এদের মধ্যে একজনকে একটু অন্যরকম লাগতো। পাত্তা দিতাম না। আমরা ভেবেছিলাম বন্ধুরা বন্ধু হিসেবে থাকব। কিন্তু আমার অবস্থা আস্তে আস্তে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছিল। ভাল লাগাটা ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছিল আর শেষপর্যন্ত ঈর্ষায় রুপান্তরে মোড় নিচ্ছিল। আমার প্রিয় বন্ধুদের (ছেলে) সাথে ও যখন কথা বলত হেসে হেসে কথা বলত আমার গা জ্বলতো আর অক্ষম ক্রোধে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম। কতদিন আমি এসব কথা ভেবে শুন্যে ও দেয়ালে ঘুষি মেরেছি। আমি হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলাম।

প্রথম বর্ষের কাহিনী এটা। কোথায় পড়ালেখায় মনোযোগ দিব না পড়ে গেলাম প্রেমোদগম যন্ত্রণায় । কাউকে বলতেও পারছিলাম না। ভাবছিলাম, বললে তো লাভ হবেই না, উল্টো নীচু মানসিকতার ছেলে বলে অপবাদ পেতে পারি। যেখানে সহপাঠীরা একের পর এক মেয়েকে প্রেম নিবেদন করছে এবং কেউ কেউ ব্যর্থ ও হচ্ছিল। আমি মনে মনে চাইতাম আর প্রেম নিবেদন করতাম। কল্পনায় আমাদের গল্প সাজাতাম, অন্তর্সুখ পেতাম। আমি দোটানায় পড়ে গেলাম, একদিকে প্রেম পিপাসুদের ভালবাসা নিবেদনের প্রচণ্ডতায় ওকে হারানোর ভয় কারন ওতো জানে না আমি ওকে কত ভালবাসি আবার অন্যদিকে নিবেদন পরবর্তী প্রত্যাখ্যানের বেদনা।

গল্পটা এখানে শেষ হয়ে যেতে পারত। একটি নতুন বিরহ কাব্য হয়ে ঝরে যেতে পারত। কিন্তু আমি আবেগে যৌক্তিক আবরন দেয়ার চেষ্টা করতে লাগলাম। ওর মন জয় করতে চেষ্টা করতে থাকলাম। চেতন মনে ওর দ্বিধা আসবে, অবচেতন মনে ঠাই নেয়ার প্রয়াস নিলাম। বন্ধু হিসেবে ও ছিল অসাধারণ। সবাইর সাথে সমান ভাবে মিশত। এমন মিশুক আর উদার মেয়ে আমি কমই দেখেছি। মাঝে মাঝে খুব কথা বলতাম আমরা বিভিন্ন বিষয়ে, পড়তাম একসাথে। আবার মাঝে মাঝে ঠিকমত কথা বলতাম না, ও অবাক হত কিছু বলত না।

‘আগুন আগুন’


তোমাকে দেখবো বলে একবার কী কাণ্ডটাইনা করেছিলাম

‘আগুন আগুন’ বলে চিৎকার করে
সমস্ত পাড়াটাকে চমকে দিয়ে
তোলপাড় ক’রে
সুখের গেরস্তালিতে ডুবে-যাওয়া লোকজনদের
বড়শি-গাঁথা মাছের মতো
বাইরে টেনে নিয়ে এলাম
তুমিও এসে দাঁড়ালে রেলিঙে
কোথায় আগুন?
আমাকে পাগল ভেবে যে-যার নিজের ঘরে ফিরে গেলো ।

একমাত্র তুমিই দেখতে পেলে
তোমার শিক্ষিত চোখে
আমার বুকের পাড়ায় কী-জবর লেগেছে আগুন



Monday, April 25, 2011

হয়ত তোমারে দেখিয়াছি


হয়ত তোমারে দেখিয়াছি 
তোমারে লইয়া সাজাব না ঘর, সৃজিব অমরাবতী! …
বন্ধ করিয়া দিও পুনঃতায়!… তোমার জাফরি-ফাঁকে
যদি ভুল করে কখনো এ মোর বাতায়ন যায় খুলি’,
ভুল করে’ কভু আসিলে স্মরণে অমনি তা যেয়ো ভুলি’।
কি হবে রিক্ত চিত্ত ভরিয়া আমার ব্যাথার দানে!…
তোমার দুঃখ তোমারেই যদি, বন্ধু, ব্যাথা না হানে,
তোমার পাতায় লিখিলাম, আমি প্রথম প্রণয়-লেখা,
তোমারে চাহিয়া জেগেছে নিশীথ, গিয়াছি গো ভালোবাসি!
– সব আগে আমি আসি’



দাবী


বায়ান্নতে
দু’টো দাবী জানালাম বিধাতার কাছে।
প্রথমটি প্রত্যাখ্যান করে বিধাতা বলেন, অপরটি বলো।
বললাম, ভাষা চাই।
বিধাতা ভাষা দিলেন।

একাত্তুরে
দু’টো দাবী জানালাম বিধাতার কাছে।
প্রথমটি প্রত্যাখ্যান করে বিধাতা বলেন, অপরটি বলো।
বললাম, স্বাধীনতা চাই।
বিধাতা স্বাধীনতা দিলেন।

নব্বুইতে
দু’টো দাবী জানালাম বিধাতার কাছে।
প্রথমটি প্রত্যাখ্যান করে বিধাতা বলেন, অপরটি বলো।
বললাম, গনতন্ত্র চাই।
বিধাতা গনতন্ত্র দিলেন।

যদিও বিধাতার মেনে নেয়া দাবীগুলোর
ঘটাতে পারিনি বিকাশ
তবুও এক গভীর রাতে
শত যুগের, শত শতাব্দীর প্রত্যাখ্যাত
সেই একটি মাত্র দাবী নিয়ে দাঁড়ালাম বিধাতার কাছে
বললাম, অন্ন চাই, অন্ন চাই, অন্ন চাই।
বিধাতা বলেন,
অন্ন নয়; অন্য কথা বল

কাদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি ...


ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে—রমনার রৌদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়ার গাছের তলায়
ভাষার জন্য, মাতৃভাষার জন্য—বাংলার জন্য।
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
একটি দেশের মহান সংস্কৃতির মর্যাদার জন্য
আলাওলের ঐতিহ্য
কায়কোবাদ, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের
সাহিত্য ও কবিতার জন্য
যারা প্রাণ দিয়েছে ওখানে
পলাশপুরের মকবুল আহমদের
পুঁথির জন্য
রমেশ শীলের গাথার জন্য,
জসীমউদ্দীনের ‘সোজন বাদিয়ার ঘাটের’ জন্য।

যারা প্রাণ দিয়েছে
ভাটিয়ালি, বাউল, কীর্তন, গজল
নজরুলের “খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি
আমার দেশের মাটি।”
এ দুটি লাইনের জন্য
দেশের মাটির জন্য,
রমনার মাঠের সেই মাটিতে
কৃষ্ণচূড়ার অসংখ্য ঝরা পাপড়ির মতো
চল্লিশটি তাজা প্রাণ আর
অঙ্কুরিত বীজের খোসার মধ্যে
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের অসংখ্য বুকের রক্ত।
রামেশ্বর, আবদুস সালামের কচি বুকের রক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সেরা কোনো ছেলের বুকের রক্ত।
আমি দেখতে পাচ্ছি তাদের প্রতিটি রক্তকণা
রমনার সবুজ ঘাসের উপর
আগুনের মতো জ্বলছে, জ্বলছে আর জ্বলছে।
এক একটি হীরের টুকরোর মতো
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ছেলে চল্লিশটি রত্ন
বেঁচে থাকলে যারা হতো
পাকিস্তানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ
যাদের মধ্যে লিংকন, রকফেলার,
আরাগঁ, আইনস্টাইন আশ্রয় পেয়েছিল
যাদের মধ্যে আশ্রয় পেয়েছিল
শতাব্দীর সভ্যতার
সবচেয়ে প্রগতিশীল কয়েকটি মতবাদ,
সেই চল্লিশটি রত্ন যেখানে প্রাণ দিয়েছে
আমরা সেখানে কাঁদতে আসিনি।
যারা গুলি ভরতি রাইফেল নিয়ে এসেছিল ওখানে
যারা এসেছিল নির্দয়ভাবে হত্যা করার আদেশ নিয়ে
আমরা তাদের কাছে
ভাষার জন্য আবেদন জানাতেও আসিনি আজ।
আমরা এসেছি খুনি জালিমের ফাঁসির দাবি নিয়ে।

আমরা জানি ওদের হত্যা করা হয়েছে
নির্দয়ভাবে ওদের গুলি করা হয়েছে
ওদের কারো নাম তোমারই মতো ওসমান
কারো বাবা তোমারই বাবার মতো
হয়তো কেরানি, কিংবা পূর্ব বাংলার
নিভৃত কোনো গাঁয়ে কারো বাবা
মাটির বুক থেকে সোনা ফলায়
হয়তো কারো বাবা কোনো
সরকারি চাকুরে।
তোমারই আমারই মতো
যারা হয়তো আজকেও বেঁচে থাকতে
পারতো,
আমারই মতো তাদের কোনো একজনের
হয়তো বিয়ের দিনটি পর্যন্ত ধার্য হয়ে গিয়েছিল,
তোমারই মতো তাদের কোনো একজন হয়তো
মায়ের সদ্যপ্রাপ্ত চিঠিখানা এসে পড়বার আশায়
টেবিলে রেখে মিছিলে যোগ দিতে গিয়েছিল।
এমন এক একটি মূর্তিমান স্বপ্নকে বুকে চেপে
জালিমের গুলিতে যারা প্রাণ দিল
সেই সব মৃতদের নামে
আমি ফাঁসি দাবি করছি।

যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে চেয়েছে তাদের জন্যে
আমি ফাঁসি দাবি করছি
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্যে
ফাঁসি দাবি করছি
যারা এই মৃতদেহের উপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্যে।
আমি তাদের বিচার দেখতে চাই।
খোলা ময়দানে সেই নির্দিষ্ট জায়গাতে
শাস্তিপ্রাপ্তদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায়
আমার দেশের মানুষ দেখতে চায়।

পাকিস্তানের প্রথম শহীদ
এই চল্লিশটি রত্ন,
দেশের চল্লিশ জন সেরা ছেলে
মা, বাবা, নতুন বৌ, আর ছেলে মেয়ে নিয়ে
এই পৃথিবীর কোলে এক একটি
সংসার গড়ে তোলা যাদের
স্বপ্ন ছিল
যাদের স্বপ্ন ছিল আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে
আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার,
যাদের স্বপ্ন ছিল আণবিক শক্তিকে
কী ভাবে মানুষের কাজে লাগানো যায়
তার সাধনা করার,

যাদের স্বপ্ন ছিল রবীন্দ্রনাথের
‘বাঁশিওয়ালার’ চেয়েও সুন্দর
একটি কবিতা রচনা করার,
সেই সব শহীদ ভাইয়েরা আমার
যেখানে তোমরা প্রাণ দিয়েছ
সেখানে হাজার বছর পরেও
সেই মাটি থেকে তোমাদের রক্তাক্ত চিহ্ন
মুছে দিতে পারবে না সভ্যতার কোনো পদক্ষেপ।

যদিও অগণন অস্পষ্ট স্বর নিস্তব্ধতাকে ভঙ্গ করবে
তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘণ্টা ধ্বনি
প্রতিদিন তোমাদের ঐতিহাসিক মৃত্যুক্ষণ
ঘোষণা করবে।
যদিও ঝঞ্ঝা-বৃষ্টিপাতে—বিশ্ববিদ্যালয়ের
ভিত্তি পর্যন্ত নাড়িয়ে দিতে পারে
তবু তোমাদের শহীদ নামের ঔজ্জ্বল্য
কিছুতেই মুছে যাবে না।

খুনি জালিমের নিপীড়নকারী কঠিন হাত
কোনো দিনও চেপে দিতে পারবে না
তোমাদের সেই লক্ষদিনের আশাকে,
যেদিন আমরা লড়াই করে জিতে নেব
ন্যায়-নীতির দিন
হে আমার মৃত ভাইরা,
সেই দিন নিস্তব্ধতার মধ্য থেকে
তোমাদের কণ্ঠস্বর
স্বাধীনতার বলিষ্ঠ চিৎকারে
ভেসে আসবে
সেই দিন আমার দেশের জনতা
খুনি জালিমকে ফাঁসির কাষ্ঠে
ঝুলাবেই ঝুলাবে
তোমাদের আশা অগ্নিশিখার মতো জ্বলবে
প্রতিশোধ এবং বিজয়ের আনন্দে।

চট্টগ্রাম, ১৯৫২

১৯৫৩ সালে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একুশে উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মাহবুব উল আলম চৌধুরী